নরসিংদীর প্রথম এমবিবিএস ডাক্তার শ্রীশচন্দ্র পাল ও সমসাময়িক ডাক্তারগণ

নরসিংদীতে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পথিকৃৎ হলেন শ্রীশচন্দ্র পাল। সর্বসাধারণের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি কয়েকজন শিষ্য-সাগরেদ বানিয়ে গিয়েছিলেন, যারাই পরবর্তীতে এলাকার চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল ধরেছিলেন। তাঁদের নাম হলো মনমোহন পাল (শ্রীশ পালের ভাই), ভাগিনা চিত্ত রঞ্জন পাল, চান মোহন সাহা ও শ্রীশবর্মণ প্রমুখ। শ্রীশচন্দ্র পালের সাথে কাজ করে তাঁরা পরবর্তীতে বেশ নামডাক সহকারে নরসিংদীতে চিকিৎসা ও ঔষধ ব্যবসা শুরু করেন।

নরসিংদীর সর্বপ্রথম এমবিবিএস ডাক্তার হলেন শ্রীশচন্দ্র পাল (১৯১০-১৯৬০)। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে ডাক্তারি পাশ করে নরসিংদী বাজারে ফার্মেসি খুলে প্র্যাক্টিস শুরু করেন ব্রিটিশ আমলে। তাঁর ফার্মেসির নাম ছিলো ‘পাল ফার্মেসী’। বর্তমানে পুরাতন পোস্ট অফিসের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত পুরাতন স্থাপত্যশৈলীর যেই একতলা ভবনটি দেখতে পাওয়া যায় (এটার বর্তমান মালিক টেলু সরকার), সেখানেই ছিলো ‘পাল ফার্মেসী’। ফার্মেসির পেছনে ছিলো শ্রীশচন্দ্র পালের বাড়ি। পরবর্তীতে তিনি বাড়ি এবং ভবন টেলু সরকারের কাছে বিক্রি করে দেন। তাঁর প্রকৃত বাড়ি ছিলো হাইরমারা গ্রামের পালপাড়া জমিদার বাড়িতে। পিতার নাম শরৎচন্দ্র পাল। হাইরামারা গ্রামটি বর্তমান রায়পুরা থানায় অবস্থিত। কলকাতা থেকে এমবিবিএস পাশ করে ডাক্তারি পেশায় তাঁর ব্যাপক প্রসার ঘটে। এই অঞ্চলের প্রথম এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে অঢেল অর্থ-বৈভবের মালিক হয়েই তিনি পুরাতন পোস্ট অফিস রোডের চেম্বার ও বাড়িটি বানিয়েছিলেন। শ্রীশচন্দ্র পাল সম্পর্কে তাঁর সমসাময়িক একজন ডাক্তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বাল্যকালে সাটিরপাড়া স্কুলে পড়িবার সময় মালেক ডাক্তার ঢাকা মিটফোর্ড হইতে এলএমএফ পাশ করিয়া নরসিংদী বাজারে বসেন। পরবর্তী কালে শ্রীশপাল কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজ হইতে এমবিবিএস পাশ করিয়া নরসিংদী বাজারে ডিসপেনসারী খুলিয়া ডাক্তারী আরম্ভ করেন। তাহার পরিচয় ছিলো এমবি ডাক্তার। তখন নারায়ণগঞ্জ ছাড়া এমবি পাশ ডাক্তার ছিলো না। তিনি প্রায় ২০ মাইল ব্যসার্ধ লইয়া দোর্দণ্ড প্রতাপে ডাক্তারী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”

নরসিংদী বাজারে পুরাতন পোস্ট অফিসের পাশের এই ভবনে বসেই রোগী দেখতেন ডা. শ্রীশচন্দ্র পাল

শ্রীশচন্দ্র পাল অত্যন্ত নামকরা ডাক্তার ছিলেন। অতি সহজেই রোগ নির্ণয় করে সঠিক মাত্রার ঔষধ দিতে পারতেন বলে রোগীরা খুব সহজেই সেরে উঠতো। এ-প্রসঙ্গে শ্রীশচন্দ্র পালের সহকারী নরসিংদী শহরস্থ ৫০, মধ্য কান্দাপাড়ার বাসিন্দা, প্রায় ৮৫ বছর বয়স্ক শ্রী মহানন্দ সাহা (বর্তমানে প্রয়াত) জানান, “শ্রীশচন্দ্র পাল ডাক্তার হিসাবে কিংবদন্তীতুল্য ছিলেন। তিনি যেকোনো জটিল রোগীর বুকে স্টেথিস্কোপ ধরেই বলে দিতে পারতেন, তার কী রোগ হয়েছে। কেউ কেউ শ্রীশ পালের রোগ নির্ণয়ের প্রতি আস্থা হারিয়ে ঢাকা-কলকাতায় গিয়ে হরেকরকম প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করেও একই রেজাল্ট পেতেন।”

আজকাল তা চিন্তাও করা যায় না। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে চূড়ান্ত উৎকর্ষ সাধন হবার পরও ডাক্তাররা অসংখ্য টেস্ট করেও সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পারছেন না। তিনি চেম্বারে প্রতিদিন শত শত রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতেন। একই সাথে রোগীদের কলেও যেতেন। এজন্যে তিনি সর্বদাই একটি সাইকেল ব্যবহার করতেন। গলায় স্টেথিস্কোপ ঝুলিয়ে সাইকেলে ব্যাগ বেঁধে শ্রীশ ডাক্তার রাত-বিরাতে টুংটাং বেল বাজিয়ে রোগীর বাড়িতে ছুটে যেতেন। তাঁর সাইকেলের বেলের শব্দ শুনেই ঘরে বসেও অনেকে বলে দিতেন ‘শ্রীশ ডাক্তার রোগী দেখতে চলেছেন।’

রোগীর প্রতি ছিলো তাঁর অপার মমতা। অর্থ রোজগারের চেয়ে মানবতাই ছিলো তাঁর পরম আরাধ্য। পাকিস্তান আমলে তিনি এতোটাই যশ-খ্যাতি পান যে, তখন তাঁর ফি দাঁড়ায় ৫ টাকা। কোনো গরীব রোগী শুধু ফি-ই নয়, ঔষধের টাকা দিতে না পারলেও তিনি রোগীকে ব্যবস্থাপত্র এবং ঔষধ দুটোই দিয়ে দিতেন। শুধু এটুকু বলতেন, “আর্থিক স্বচ্ছলতা আসলে আমার পাওনাটা ফেরত দিলে খুশি হবো।”

তৎকালীন সময়ে এতো শিক্ষিত ও এতো বড়ো ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও কোনো রোগীর সাথে তিনি কখনো কটুবাক্য ব্যবহার করতেন না। তাঁর বিনয় আর মানবিক ব্যবহার দেখেই অনেক রোগী সুস্থ হয়ে যেতো বলে কিংবদন্তী রয়েছে। মাঝারি উচ্চতা, মোটা, শ্যামল বর্ণ ও প্যান্ট-শার্টে অভ্যস্ত শ্রীশচন্দ্র পালের চলাফেরায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও তাঁর মন ছিলো শিশুর মতো নিষ্পাপ। খুব সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন তিনি। তৎকালীন সময়ে রাজরোগ ছিলো যক্ষ্মা। এই রোগের কোনো চিকিৎসা ছিলো না। সাথে কালাজ্বর, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া— প্রভৃতি রোগেরও যথার্থ চিকিৎসা হতো না বলে অনেক লোক মারা যেতো। কিন্তু শ্রীশচন্দ্র পাল নরসিংদীতে ডিসপেনসারি খুলে প্র্যাক্টিস শুরু করলে এসব রোগীরা সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে।

তাঁর পরপরই আরেকজন শিক্ষিত এমবিবিএস পাশ ডাক্তার নরসিংদীতে ডিসপেনসারি খুলে প্র্যাক্টিস শুরু করেন। নাম রাইমোহন রায়। তাঁর বাড়ি অধুনা মাধবদীর দক্ষিণাঞ্চলে, আলগী গ্রামে। নরসিংদীতে দুজন এমবিবিএস পাশ ডাক্তার হওয়াতে জনসাধারণের কাছে তাঁদের পরিচয় হয় ‘শ্রীশ এমবি’ এবং ‘রাইমোহন এমবি’। নরসিংদী বাজারস্থ কালীবাড়ি সংলগ্ন ‘রায় মেডিকেল হল’ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে রাইমোহন রায় প্র্যাক্টিস শুরু করেন। নরসিংদীতে যতোগুলো পুরোনো ঔষধের দোকান রয়েছে, তার মধ্যে রায় মেডিকেল হল অন্যতম। আগে এখানে আলাদা কোনো ঔষধের দোকান ছিলো না। এমবিবিএস অর্থাৎ এমবি, এলএমএফ কিংবা এলএমএস পাশ করা ডাক্তাররা প্র্যাক্টিস করার জন্যে যে-চেম্বার খুলতেন, তার মধ্যেই ঔষধের দোকান অন্তর্ভুক্ত থাকতো। রাইমোহন রায়ও শ্রীশচন্দ্র পালের মতো একজন সফল চিকিৎসক ছিলেন। রাইমোহন রায়ের অন্যতম শিষ্য ও এসিস্ট্যান্ট ছিলেন ডা. ক্ষেত্রমোহন সাহা এলএমএফ। রাইমোহন রায় ষাটের দশকের মাঝামাঝি এদেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমানোর আগে এসিস্ট্যান্ট ক্ষেত্রমোহন সাহাকে রায় মেডিকেল হল অর্পণ করে যান লিখিতভাবে। তবে ইতিহাসের অংশ রায় মেডিকেল হলের তখনই সমাপ্তি ঘটে। ক্ষেত্রমোহন সাহা নাম পরিবর্তন করে ‘সাহা মেডিকেল হল’ করেন এবং ১৯৯৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই নামেই নরসিংদী শহরে ওষুধ ব্যবসার প্রসার ঘটান। বর্তমানে তার দুই ছেলে অঞ্জন সাহা ও রঞ্জন সাহা এবং নাতিরাও ফার্মেসি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এখানে উল্লেখ্য, নরসিংদীর আরেকজন খ্যাতনামা চিকিৎসক ক্যাপ্টেন ডা. হেমেন্দ্রচন্দ্র সাহা (গগন মেডিকেল হল) রায় মেডিকেল হলে বসে তাঁর ডাক্তারি জীবন শুরু করেছিলেন। পরে তিনি ‘শিশু বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি পান। তিনিও দুই দশক আগে সপরিবারে ভারত চলে যান এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এতোটাই জনপ্রিয় ডাক্তার ছিলেন যে, সদর রোডের যে-স্থানে চেম্বার ও বাসা বানিয়ে তিনি প্র্যাক্টিস ও বসবাস করতেন, সে-স্থানটিকে জনগণ ভালোবেসে ‘হেমেন্দ্র সাহার মোড়’ নামকরণ করে।

তবে নরসিংদীতে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পথিকৃৎ হলেন শ্রীশচন্দ্র পাল। সর্বসাধারণের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি কয়েকজন শিষ্য-সাগরেদ বানিয়ে গিয়েছিলেন, যারাই পরবর্তীতে এলাকার চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল ধরেছিলেন। তাঁদের নাম হলো মনমোহন পাল (শ্রীশ পালের ভাই), ভাগিনা চিত্ত রঞ্জন পাল, চান মোহন সাহা ও শ্রীশবর্মণ প্রমুখ। শ্রীশচন্দ্র পালের সাথে কাজ করে তাঁরা পরবর্তীতে বেশ নামডাক সহকারে নরসিংদীতে চিকিৎসা ও ঔষধ ব্যবসা শুরু করেন। পুরাতন পোস্ট অফিস, বণিকপট্টি, সুতাপট্টি, সিএন্ডবি রোড কিংবা পাটপট্টি— প্রভৃতি এলাকায়ই তাঁদের চেম্বার ও ঔষধের দোকানগুলো গড়ে উঠেছিলো। সেই পুরোনো দোকানগুলোর মধ্যে রায় মেডিকেল হল, সাহা মেডিকেল হল, সাহা ফার্মেসী, অমিয় ফার্মেসী প্রভৃতির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রায় মেডিকেল হলের মালিক হলেন ডা. রাইমোহন রায়ের এসিস্ট্যান্ট ক্ষেত্রমোহন সাহা ও তাঁর ছেলেরা। সাহা মেডিকেল হল ও ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী শ্রীশ পালের শিষ্য মহানন্দ সাহা ও তাঁর ছেলে এবং ভাতিজারা। নরসিংদীর অন্যতম এলএমএফ পাশ প্রাচীন ও মুসলমান ডাক্তার হলেন আব্দুল মালেক। পাটপট্টি চেম্বার খুলে শ্রীশ পালের সমসাময়িক কালে তিনি প্র্যাক্টিস করতেন। বর্তমানে তাঁর এক ছেলে ডা. রফিকুল ইসলাম চেম্বার খুলে প্র্যাক্টিস করছেন। তিনি এমবিবিএস পাশ ডাক্তার।

নরসিংদী এলাকার কিংবদন্তীতুল্য ডাক্তার শ্রীশচন্দ্র পাল ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে সবাই যেন নির্বাক হয়ে যায়।

ব্রিটিশ আমলে আরেকজন নামকরা এলএমএফ পাশ ডাক্তার ছিলেন সরোজেন্দ্র লাল কুণ্ডুু। তিনি সর্বত্র ‘কুণ্ডু ডাক্তার’ নামে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তাঁর হাতযশ ছিলো কিংবদন্তী সমতুল্য। শ্রীশচন্দ্র পাল ও রাইমোহন রায়ের মতো দেশবিখ্যাত এমবিবিএস ডাক্তারের ব্যর্থ হওয়া অনেক রোগীকে সারিয়ে তুলে তিনি নরসিংদীতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। শিবপুর থানার চন্দনদিয়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব যোগেশচন্দ্র সাহা (বর্তমানে প্রয়াত) কুণ্ডু ডাক্তার সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার গ্রামের উপেন্দ্র ভট্টাচার্যের ছেলে হারাধন ভট্টাচার্যের স্ত্রীর ভয়ানক টাইফয়েড জ্বর হলে একসময় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। উক্ত রোগীকে চিকিৎসার জন্য শ্রীশচন্দ্র পালকে কল করা হয়। তখন তিনি ঢাকা জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। তিনি ১০-১২ দিন চন্দনদিয়া গিয়ে উক্ত গৃহবধূর চিকিৎসা করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে রোগীর কোনো উন্নতি হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে রোগীর আশা ছেড়েই দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে হেঁয়ালিভাবে কুণ্ডু ডাক্তার উক্ত রোগীকে অনেকটা অলৌকিকভাবে সারিয়ে তোলেন। শ্রীশ ডাক্তারের ব্যর্থ রোগী কুণ্ডুু ডাক্তারের হাতে সেরে ওঠার কাহিনি তখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর তার প্রসার বৃদ্ধি পায়। কুণ্ডুু ডাক্তার বর্তমান সিএন্ডবি রোডে অমিয় ফার্মেসী প্রতিষ্ঠা করে প্র্যাক্টিস শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে অমিয় ফার্মেসী চালিয়েছিলেন ডা. নীলরতন চক্রবর্তী। বর্তমানে তিনিও প্রয়াত।

নরসিংদী এলাকার কিংবদন্তীতুল্য ডাক্তার শ্রীশচন্দ্র পাল ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনে সবাই যেন নির্বাক হয়ে যায়। জানা যায়, তখন শ্রীশচন্দ্র পালের স্ত্রী পূর্ণলক্ষ্মী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। সঙ্গে ছিলো তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। উন্নত চিকিৎসার খাতিরে অধিকাংশ সময় কলকাতায় অবস্থানের কারণে তিনিও প্রায়ই কলকাতা যেতেন। এক পর্যায়ে স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে যাবার জন্যে নরসিংদীর বাড়ি-চেম্বার ভবনসহ সবকিছু জনৈক টেলু মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন। এর মধ্যে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ট্রেনে কলকাতা যাবার পথে পুবাইল কিংবা জয়দেবপুর রেলস্টেশনে দুর্ঘটনায় মারা যান। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট স্টেশনের একটি মিষ্টির দোকানের ছানার মিষ্টি তিনি খুবই পছন্দ করতেন। ট্রেনটি উক্ত স্টেশনে স্টপেজ দিলে তিনি নেমে দোকানে বসে কিছু মিষ্টি খেয়ে আরেক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে বের হয়ে দেখেন, ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে। তিনি দৌড়ে গিয়ে এক হাতে মিষ্টির প্যাকেট থাকার কারণে অন্য হাতে ট্রেনের ডাণ্ডা ধরে উঠতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ডান পা হাঁটুর উপর থেকে চাকায় কাটা পড়ে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিলো প্রায় ৫০ বছর।


আপেল মাহমুদ
সাংবাদিক, গবেষক ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ সংগ্রাহক

সম্পর্কিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ