লটকন একটি পুষ্টিকর মুখরোচক ফল। এই ফল একসময় বনে-জঙ্গলে জন্মে অনাদরে- অবহেলায় পড়ে থাকতো। কিছুটা টক হওয়ায় মানুষ লটকনকে গুরুত্ব দিতো না। তখনকার বিশাল বনভূমির যেখানে-সেখানে অনায়াসেই ফলতো লটকন। তখন মানুষ প্রধানত ভাত-মাছের জোগাড় করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাতেই বেশি আগ্রহী ছিলো। গাছে গাছে থোকা থোকা লটকন ঝুলে থাকলেও সেদিকে কারো খেয়াল ছিলো না। পাখ-পাখালি অন্যান্য খাবারের অভাব হলে কিছু লটকন খাওয়ার পর যা থাকতো, সব পচে-গলে শেষ হতো। পাখিদের হেঁয়ালিপনায় কিছু বীজ জঙ্গল কিংবা লোকালয়ের এখানে-সেখানে পড়ে চারা গজিয়ে তা আবার গাছে পরিণত হতো। বিশেষ করে জঙ্গলই ছিলো লটকনের প্রধান ক্ষেত্র। চাষাবাদ তো দূরের কথা, কেউ এই ফলের তেমন যত্নও নিতো না। বর্তমানে বন-জঙ্গল কমে যাওয়ায় জঙ্গলের লটকন এখন আর তেমন দেখা যায় না। এর ব্যাপক গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষ যখন জানতে পেরেছে, তারপর থেকেই এই ফল চলে এসেছে আধুনিক চাষাবাদের অঙ্গনে। বিভিন্ন স্থানে লটকনের বৃহৎ বাজার গড়ে উঠেছে।
লটকন চাষের জন্যে নরসিংদী জেলা ইতোমধ্যে সারা দেশে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলায় কোথাও কোথাও লটকন পাওয়া গেলেও পুষ্টিগুণে নরসিংদীর লটকন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরার মাটি সুমিষ্ট-পুষ্টিকর লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। নরসিংদীর এই ফল ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপীও সুনাম অর্জন করেছে। দেশে উৎপাদিত মোট লটকনের প্রায় ৯০ শতাংশই নরসিংদীর এই তিনটি উপজেলায় উৎপাদিত হয়। অন্যান্য জেলার মধ্যে গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুঁড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে কিছু পরিমাণ লটকন পাওয়া যায়।
নরসিংদীর শিবপুরের জয়মঙ্গল, যোশর ও বাঘাব ইউনিয়ন, বেলাব’র লাখপুর, বটেশ্বর ও হাড়িসাঙ্গান এবং রায়পুরার মরজালসহ কিছু অঞ্চলের জমিতে প্রচুর পরিমাণে লটকন জন্মে। এসব এলাকার জমি প্রকৃতির আশীর্বাদে লাল বেলে-দোআঁশ মাটিতে গঠিত। নরসিংদীর এই লাল মাটি ক্যালসিয়াম ও খনিজে সমৃদ্ধ। এখানকার লটকনও বাংলাদেশের অন্য যেকোনো এলাকার চেয়ে মুখরোচক, সুগন্ধময় ও সুস্বাদু, যা রসনাকে তৃপ্ত এবং জিহ্বাকে সংবেদনশীল করে তোলে। নরসিংদীর লটকন ভিটামিন সি-তে পরিপূর্ণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাই মানুষের মুখে মুখে নরসিংদী এখন ‘লটকনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

এই ‘লটকনের রাজধানী’ খ্যাতি পাওয়ার পেছেনে যাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি প্রয়াত হাজী হাকিম আবদুল আজিজ। শিবপুরের আজকিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব কয়েস গাজীর সাথে আলোচনা করে জানা যায়, হাজী হাকিম আবদুল আজিজই নরসিংদীর শিবপুরের আজকিতলা গ্রামে সর্বপ্রথম লটকন চাষ শুরু করেন। ব্যাপক ফলন পেয়ে মাত্র কয়েক বছরের চাষেই তিনি ভীষণ লাভবান হন। তখন তিনি তাঁর অসচ্ছল গ্রামবাসীদের এই ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। প্রবীণ এই মানুষটির কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই শুরু করেন। এলাকায় লটকন চাষের ধুম পড়ে যায়। শিবপুর থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে বেলাব ও রায়পুরায় লটকন চাষের প্রসার ঘটেছে। শতায়ু আবদুল আজিজের কারণেই আজ নরসিংদীবাসী লটকনে সমৃদ্ধ হতে পেরেছে।

হাজী হাকিম আবদুল আজিজের ছেলে লোকমান হায়দার জানান যে, নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামে ১৯০২ সালে তার বাবা জন্মগ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে তিনি প্রথমে অন্য এলাকা থেকে একটি লটকনের চারা সংগ্রহ করে নিজের জমিতে রোপণ করেছিলেন। সেই চারা গাছে পরিণত হলে তাতে প্রচুর লটকন জন্মে। লটকন চাষ করে লাভবান হলে তিনি এলাকাবাসীকে লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। লটকনে তাঁর লাভ দেখে অনেকেই এই ফল চাষে মনোযোগী হতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে আজ এলাকায় ঘরে ঘরে লটকন চাষী। লটকন চাষে তাঁর নিজের সাফল্য, মানুষকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করা এবং এই ফলকে জনপ্রিয় করে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে গাজীপুরে একটি কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানে (যে-অনুষ্ঠানে কৃষির ব্লক সুপারভাইজারদের দ্বিতীয় শ্রেণির উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদবি ঘোষণা করা হয়) প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেন। হাকিম আবদুল আজিজই নরসিংদীতে লটকন চাষের গোড়াপত্তন করেন। এই মহান ব্যক্তি ২০১১ সালে ১০৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
মানুষ পরম শ্রদ্ধায় হাকিম আবদুল আজিজের কথা স্মরণ করেন। শিক্ষক কয়েস গাজী আরো জানান যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিন্তক, গবেষক-বিজ্ঞানীরা আদুরে মেহমানের মতো লটকনের রাজধানীতে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। তারা তাদের গবেষণার উপাদান হিসেবে নরসিংদীর লটকনকে বেছে নিয়েছেন। তারা লটকন বাগানে বসেই নোটবই, ডায়েরি ও কলমে তথ্য-উপাত্ত লিপিবদ্ধ করে গবেষণার কাজে মগ্ন হয়ে পড়েছেন। পর্যটক ও মিডিয়াকর্মীরা হরহামেশা লটকনের খোঁজ নিতে আসেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ টন লটকন বিদেশে রপ্তানি করা হয়। রপ্তানিকৃত লটকন থেকে আয় হয় প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা। এই আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশই আসে শুধু নরসিংদীতে উৎপাদিত লটকন থেকে। কাতার, ওমান, কুয়েত, সৌদি আরব, ইংল্যান্ড, ইতালিসহ ইউরোপের অনেক দেশে এই লটকনের নিজস্ব বাজার গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে নরসিংদীর লটকন সমাদৃত হওয়ার অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে এখানকার লটকন দীর্ঘ সময় ধরে সবুজ ও সতেজ থাকে। সহজে মান ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না।
ইতোমধ্যে নরসিংদীর লটকন জিআই অর্থাৎ জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেটর বা ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধন বা ব্র্যান্ডিং মর্যাদা পেয়েছে। আমাদের এ-ফলের জিআই বা আইনী স্বীকৃতি নাম্বার ৩২ বলে জানা গেছে। আইনী বা জিআই স্বীকৃতি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। এটি দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের গুণ, ঐতিহ্য ও সুনামকে স্বীকার করে নেয়া হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার অনেক পণ্যের গুণাগুণ বিচার করে তার মধ্যে চৌষট্টিটি পণ্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ-বিষয়ে আরো কাজ চলছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে লটকন পুষ্টিগুণে অন্যান্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।
লটকনের সবচেয়ে বড়ো হাট বসে শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরার সঙ্গমস্থল মরজাল বাজারে। বাগান থেকে লটকন আকর্ষণীয়ভাবে প্যাকেটজাত করে বাজারে তোলা হয়। বাজারগুলো থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় লটকন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, একসময় জেলার শিবপুর, বেলাব-তে কাঁঠালের ব্যাপক উৎপাদন হতো। শিবপুরের কাঁঠালে জেলার বাজারগুলো ছেয়ে যেতো। এখনো কাঁঠাল জেলার সর্বত্র হয়। তবে কাঁঠালের হাটের জন্যে মরজাল আগে থেকেই পরিচিত ছিলো।
নরসিংদীর অমৃতসাগর কলার ব্যাপক পরিচিতির কথা সবার জানা। অনেক আগেই অমৃতসাগর কলা জিআই মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে। নরসিংদীর সরস মাটিতে কলা, লটকন ছাড়াও নানা পুষ্টিকর ও মজাদার ফল-ফসলাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। রায়পুরার বারৈচা দেশের অন্যতম সবজি উৎপাদন এলাকা। এখানকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন হাট থেকে হাজার হাজার ট্রাকভর্তি হরেক রকম সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। নরসিংদী সদরের চরের তরমুজ, পলাশের রাবানের সুস্বাদু রসালো আনারস, রায়পুরার চরের সুমিষ্ট বাঙ্গি, শিবপুরের কলম্বো লেবু, মাধবদীর ছানার মিষ্টি, বেলাব’র দুধকচু এবং মনোহরদীর লালডিঙ্গি পানের ব্যাপক কদর সারা দেশে। এই সবকিছুর সম্মিলন ঘটে নরসিংদী সদর ও শহরের বড়ো হাটে।
লেখাটি যখন লিখছি, নরসিংদীতে তখন লটকনের ভরা মৌসুম। হৈচৈ পড়ে গেছে লটকন বাগানগুলোতে। লটকন পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। বাজার হতে বাজার সরগরম হয়ে উঠছে লটকনের ব্যাপক সমারোহ আর কৃষকের উচ্ছ্বাসে। এ-বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর নরসিংদীতে ২,৮৫০ হেক্টর বা ৮,৫৫০ বিঘা জমিতে লটকনের চাষ হয়ে থাকে। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৬ টন ফলন হয়। উপজেলাভিত্তিক কৃষি অফিসগুলো ভালো ফলনের জন্যে যথেষ্ট তদারকি করে থাকে। শিবপুরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব মোহসিনা জাহান তোরণের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, লটকন চাষীদের তারা বিভিন্নভাবে সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কৃষি বিভাগের প্রথম পরামর্শই থাকে— কীভাবে লটকন গাছের মারাত্মক ছত্রাক রোগ ‘ফিউজেরিয়াম উইল্ট’ রোধ করতে হবে, তা সম্পর্কে। উল্লেখ্য, ফিউজেরিয়াম উইল্ট রোগটি লটকন গাছের শিকড় ও গোড়ায় আক্রমণ করে। ফলে গাছের পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এই রোগে আক্রান্ত লটকন গাছ ও পাতা হলুদ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার ১০/১২ দিনের মধ্যে গাছ শুকিয়ে মারা যায়। কৃষকের মাথায় হাত পড়ে, তাদের অর্থ ও শ্রম উভয় বৃথা যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ থাকে— লটকন বাগানে পানির সুন্দর নিষ্কাষন ব্যবস্থা রাখা, পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনে মাটিতে চুন প্রয়োগ করার। পানিতে বায়োডার্মা মিশিয়ে ১০/১২ দিন পর পর গাছের গোড়ায় দিতে হয়। লক্ষ্য রাখতে হয়, বাগান যেন স্যাঁতসেঁতে না হয়ে পড়ে, কাঁচা গোবর দেয়া না হয়, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা যেন ফেলা না হয়। লোহার পাত্র ব্যবহার করা যায় না। ফুল ও ফল আসার ৭ দিন পর ঝরে যাওয়া রোধে ‘নুট্রাফস’ পানির সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হয়। বাগানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়।
কৃষকবান্ধব মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও চ্যানেল আইয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শাইখ সিরাজও বলেছেন, “বাংলাদেশের লটকন চাষের ইতিহাসের সঙ্গে নরসিংদী জেলার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রায় ২৫০ বছর আগে থেকেই এখানকার মানুষ লটকনের সাথে পরিচিতি।” এ-লটকনের চাষ নরসিংদীতে অনেক পূর্ব থেকে কমবেশি হয়ে আসছে। তাঁর প্রত্যাশা, নরসিংদীর মানুষ অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখবেন আগামীতেও। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, অতি কষ্টে লটকন চাষ করে অনেক সময় চাষীরা ন্যয্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। লোকসান হলে দুশ্চিন্তায় পড়ে, কষ্ট পায়। চাষীরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। এর কারণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব বিস্তার। সিন্ডিকেট তৈরি করে তারা চাষীদের নিকট থেকে কম মূল্যে লটকন ক্রয় করে। নানাভাবে হাত বদল করে মূল ক্রেতার নিকট বেশি মূল্য আদায় করে নিজেরা লাভবান হয়। তাছাড়া যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রান্তিক চাষীরা তাদের পরিশ্রমের ফসল মজুত রাখতে পারেন না। পেকে গেলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে এ-বাজার থেকে ও-বাজারে দৌড়েও উৎপাদনকারীরা ফড়িয়াদের খপ্পরে পড়ে যায়। এলাকার কৃষি শ্রমিক, বিশেষ করে লটকন চাষীদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের। তা করা হলে লটকন চাষ তাদের জন্যে আশীর্বাদে পরিণত হবে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে আমাদের সদাশয় বাংলাদেশ সরকার নরসিংদীর লটকন চাষীদের পরিশ্রমের কথা বিবেচনা করে একটি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
নূরুদ্দীন দরজী
সাবেক উপজেলা শিক্ষা অফিসার

